জেল হাজতে সাহেদ : সাবরিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিউজ ডেস্ক : জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি )। করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক লিয়াকত আলী ঢাকার মুখ‌্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন, ডা. সাবরিনার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী, তার সহযোগী সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস এবং মামুনুর রশীদ। এই ৮ আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন‌্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই জেকেজি হেলথকেয়ার ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয়। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে গত ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার অস্ত্র আইনে মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে বহুল আলোচিত করোনা টেষ্ট জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি সাহেদ করিমকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের নির্দেশে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-৬ এর এসআই রেজাউল করিম দেবহাটা আমলী আদালতে তাকে হাজির করে।আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার রায় তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর অমল কুমার রায়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই বুধবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রতারক সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর গ্রামের লাবণ্যবতী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গত ২৬ জুলাই সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-৬ এর এসআই রেজাউল করিম। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে পরদিন তাকে ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর গত ৩০ জুলাই সাহেদকে পুনরায় শাখরা কোমরপুর লাবন্যবতী নদীর ব্রিজের ওপর নেয়া হয়। সেখানে তাকে নিয়ে র‌্যাব সদস্যরা কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে আবারও খুলনা র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।