টঙ্গীতে গৃহবধূ টুম্পা হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

শাহবাজ খান : গাজীপুর মেট্রোপলিটন সিটির টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া আলম মার্কেট এলাকায় তানজিলা ইসলাম টুম্পা নামের ১৭ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও স্বামীর পরিবার নির্মমভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । ঘটনাটি গত মঙ্গলবার ১৬ জুন সকাল ১০.০০ টায় ঘটে বলে জানাগেছে। এ ঘটনার পর থেকেই স্বামী সাকিব মৃধা ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক ছিল। পরবর্তীতে সাকিব মৃধাকে পুলিশ আটক করতে পারলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অপর আসামিদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

নিহত তানজিলা ইসলাম টুম্পার বাবা মাঈনুল ইসলাম টিটো জানান, তার বাড়ি টঙ্গী দত্তপাড়া আলম মার্কেট এলাকায়। গত দেড় বছর আগে, একই এলাকারার সাঈদ মৃধার ছেলে সাকিব মৃধার সাথে তার একমাত্র মেয়ের পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহ কার্য্য সম্পন্ন হয়।

নিহতের মা মমতাজ বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য তাদের মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করতো টুম্পার স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন। হত্যার শিকার হওয়া টুম্পা নির্যাতন সইতে না পেরে এরআগে কয়েক বার বাবার বাড়ি চলে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যৌতুকের টাকা দিয়ে আবারও মেয়েকে শশুর বাড়ী পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল, মোবাইল, ফার্নিচারের জন্য শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। মেয়ের বাবা-মা ভেবেছিল, এসব দিলে যদি তাদের কন্য সুখে থাকতে পারে তবে দিতে দোষ কোথায়? মেয়ের সুখের কথা ভেবে ছেলের সব চাহিদা পূরণ করা হয়।

টুম্পার স্বামী সাকিব মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অশান্তির কারণে স্বামীর বাড়ীতে যেতে চাইতো না। হত্যার তিনদিন আগে বাবার বাড়ি থেকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়ীতে টুম্পাকে দিয়ে আসে তার বাবা-মা। মেয়ের মা ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন, আমাকে সকাল ১০ টার দিকে টুম্পার শাশুড়ী ফোন দিয়ে বলেন টুম্পা কেমন জানি করছে আপনি দ্রুত আসেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম সাকিব কোথায়? তখন তিনি বলেন অফিসে, দ্রুত আসেন, নয়তো মেয়েকে জীবিত নাও পেতে পারেন।

টুম্পার মা ফোন রেখে ছেলেকে নিয়ে দ্রুত মেয়ের বাড়ি চলে আসেন। এসে দেখেন, ঘটনা যা ঘটার ঘটানো শেষ। নিথর টুম্পার দেহ ঝুলছে ফ্যানের সাথে। আর স্বামীসহ সবাই বসে বসে আমাদের অপেক্ষা করছে। আমি গিয়েই দ্রুত মেয়েকে নামিয়ে মাথায় পানি দেই, পরে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন হাসপাতালের ডাক্তার বলেন মেয়ে অনেক আগেই মারা গেছে।

নিহত টুম্পার মা মমতাজ বেগম আরও বলেন, তাদের মেয়েকে স্বামী সাকিব মৃধা ও তার পরিবার পরিকল্পিত ভাবে হত্যা শেষে ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে জোর অভিযোগ আনেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে, ঘাতক স্বামী সাকিব মৃধা ও চিহ্নিত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে এবং টুম্পা হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসী কয়েক দফা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।