নিবন্ধঃ নিয়্যত কতটা পাওয়ারফুল একবার ভেবে দেখেছেন?

রফিক সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। ১৮ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। সম্পূর্ণ টাকা ব্যাংকে রেখেছেন যাতে ভবিষ্যতে রোগ ব্যাধি হলে দেখাতে পারেন। ও হ্যা মাস শেষে ১৮ হাজার টাকা তুলতে উনি কখনো ভুলেন না!
মাত্র ৪ বছরের মাথায় উনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেন।

আফসানা’ নিজের পায়ে না দাড়ানো পর্যন্ত নাকি বিয়েই করবে না। স্বামীর টাকায় নাকি সে চলবে না। ৪০ বছর হয়ে গেল মেয়েটার এখনো বিয়েই হলো না!

অনেক পড়ালেখা করে রুমি। ও বলে পড়ালেখা না করলে ভালো চাকরি জুটবে না। বিয়ের পর যদি স্বামী মারা যায় তখন তার কি হবে! ভবিষ্যতের কথা তো বলা যায় না! হায় কি ভাগ্য বিয়ের ৫ বছর পর স্বামী মারা গেল!

নিয়্যত কতটা পাওয়ারফুল দেখেন। উনারা সবাই কিন্তু আমাদের আশেপাশেই আছে।

রফিক সাহেব টাকা জমা রাখেন কারণ রোগ হবে বলে। দেখুন উনি নিজেই নিজের রোগকে কিভাবে ডেকে আনছেন!

আফসানার বর’ই জুটলো না বরের টাকায় চলা তো দূরের কথা। রুমি চাকরি করে কারণ তার স্বামী মারা যাবে বলে।

উনারা কাজটা করার আগে নিজেরাই কিভাবে নিজেদের গতিকে ঠিক করে দিচ্ছে! সুবহানআল্লাহ! তাদের কাজটা কিন্তু তাদের নিয়্যত অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছে। উনারা যারা যা চেয়েছিল সবাই তাই পেয়েছে!

হজরত হাজেরা (রঃ) ইব্রাহীম (আঃ) কে বললেন, মানুষ নেই-ঘর নেই-পানি নেই-গাছ নেই- এমন জায়গায় আপনার স্ত্রী পুত্রকে একা ফেলে কোথায় চলে যাচ্ছেন? আল্লাহ কি আপনাকে এমন করতে বলেছেন? ঠিক আছে আপনি যান। তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না!

দেখুন কি তাওয়াক্কুল! এই হজ্জেও হাজীরা সাফা-মারওয়া পাহাড় দৌড়াবে, জমজম কূপের পানি খাবে শুধুমাত্র তার এই তাওয়াক্কুলের কারণে! সুবহান আল্লাহ!

মুসা (আঃ) নিজ শহর ত্যাগ করলেন। ভাবলেন না কোথায় থাকবেন কি খাবেন। বরং বলে যাচ্ছেন নিশ্চয় আল্লাহ পথ দেখাবেন। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’লা তাকে থাকার ব্যবস্থা করে তো দিলেনই সাথে জীবনসঙ্গীসহ ১০ বছর থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।

জানেন রফিক সাহেব কি বলেছিলো অপারেশনের পর? টাকাটা ব্যাংকে রেখেছিলাম বলেই আজকে অপারেশনের টাকাটা জুটলো না হলে বিছানায় থেকে মরতে হত। উনি উনার স্টেটমেন্ট হয়ত ভুলে গেছেন। উনি ব্যাংকে টাকা রেখেছিলেন এই বলে যে একসময় তার রোগ হবে!

আজকে আপনি আমি আমরা সবাই আল্লাহ কে ভয় করা বাদ দিয়ে ভয় করি রোগকে, ভয় করি টাকা না থাকাকে। আমরা কতটা নিচে চলে গেছি ভেবে দেখুন!

অজান্তেই শিরকের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি । ওরা মাজারে যায়, দেখে বলি, ‘আরে ও তো মরে গেছে ও কিভাবে তোমাকে দিবে’ ?

অনেকে তাবিজ নেয়, দেখে বোঝা যায় ওরা হারাম/ শিরক করছে।

ওদের শিরকতো দেখা যায় । ওদের না হয় বোঝানো যাবে কিন্তু আমারটা, আপনারটা? আমাদেরটা তো দেখা যায় না কে বোঝাবে আমাদের ?

কিন্তু আমাদের অজান্তেই আমরা শিরক করছি। এগুলো গোপন শিরক, শিরকে খফি। যা দেখা যায় না। আমাদের সব আমল এই শিরকে খফির কারনে বরবাদ হয়ে যাচ্ছে।

একবার এক ভাই বাড়ি বানাচ্ছেন, বলছিলেন যে উনি ভেনটিলেটর দিচ্ছেন এই নিয়্যতে যে ফজরে দরজা জানালা বন্ধ থাকলে এই ভেন্টিলেটর দিয়ে ফজরের আজান শোনা যাবে। আমরা অনেকেই ভেন্টিলেটর লাগাই পিউর বাতাস পাবার জন্য, আর সেই ভাই তার এই নিয়্যতের কারনে হয়তো কত উচ্চতায় উঠে যাবেন। আর পিউর বাতাস তো উনি পাবেনই। একারনেই বলা হয়েছে যে আখিরাতের নিয়্যত করে দুনিয়া তার পায়ে লুটায়।

আপনি ছাত্র হলে পড়ালেখাটা আল্লাহর জন্য করুন, দাওয়াত এর নিয়্যতে করুন। চাকরিটা আল্লাহর জন্য করুন, হালাল রিজিকের জন্য করুন। তাঁর নিয়মের ভিতরে থেকে করুন। তাওয়াক্কুল রাখুন। ভাল ভাল নিয়্যত করুন। আপনি সবার থেকে সুখী হবেনই! কোন মাখলুক ঠেকাতে পারবে না! ইনশা আল্লাহ!

লেখকঃ খাদিজা মিতু