বজ্রপাতে ছয় জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক : বজ্রপাতে দেশের ছয় জেলায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার নেত্রকোনা, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, ও ময়মনসিংহে পৃথক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে নিহতের অধিকাংশই কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মানিকগঞ্জ: সদর উপজেলার গিলন্ডে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজমত আলীর (৫০) মৃত্যু হয়। এদিন বজ্রপাতে এই জেলায় অনিক নামে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনা: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু এবং নয়জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে বজ্রপাতে জেলার খালিয়াজুরীতে তিনজন, মদন ও কেন্দুয়া উপজেলায় দুইজন করে মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার সাতজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতেরা সকলে ক্ষেতে কৃষিকাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতেরা হলেন, খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের খেলু ফকিরের ছেলে অছেক মিয়া (৩২), একই গ্রামের আমির সরকারের ছেলে বিপুল মিয়া (২৮) ও বাতুয়াইল গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে মনির (২৮)। এ উপজেলায় আহতেরা হলেন, গাজীপুর ইউনিয়নের বাতুয়াইল গ্রামের মামুন মিয়া (৩২) জয়াদ মিয়া (৪২) আতিকুল (৩২) শফিকুল (৩০) ও আবুল মিয়া (৩৫)। তারা গুরুতর আহত হয়ে মদন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেন্দুয়া উপজেলায় পাইকুড়া ইউনিয়নের বৈরাটী গ্রামের মো. বায়েজিদ মিয়া (৪২) ও কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুন্ডলী গ্রামের মো. ফজলুরর রহমান (৫৫) নিহত হয়েছেন।

এছাড়া মদন উপজেলার পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে হাফেজ মো. শরীফ (১৮) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফের ছেলে মাওলানা আতাবুর রহমান (১৯) নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ উপজেলায় বজ্রপাতে পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের রবিন (১৫) ও রুমান (১৮) এবং বাস্তা গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার স্ত্রী কনা (৪৫) ও চন্দন মিয়ার স্ত্রী সুরমা আক্তার আহত হয়ে মদন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ: জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় আবু তাহের (৩৫) নামে এক যুবক বজ্রপাতে মারা যান। আবু তাহের দোয়ারা বাজার সদর ইউনিয়নের তেগাঙ্গা গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে দোয়ারা বাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দোয়ারাবাজার থানার ওসি নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা: জেলার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের সিতারামপুর গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে মো. মোমেন (৩৫) নামের এক যুবকের বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তিনি সিতারামপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। এলাকাবাসী জানান, বাড়ির পাশের জমি থেকে তার পালিত ছাগল আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের কবলে পড়লে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন এবং থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

ফরিদপুর: এ জেলায় বজ্রপাতে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ফরিদপুর পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী, ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লা ডাঙ্গী মহল্লা, সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ও মধুখালী উপজেলার চাদপুরে এসব পৃথক দুর্ঘটনা ঘটে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বামী ও ছেলের সাথে মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ফরিদপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাডাঙ্গী মহল্লায় বজ্রপাতে নিহত হন আনোয়ারা বেগম (৪৫)। তিনি আনোয়ারা বেগম মোল্লা ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক কাবুল শেখের স্ত্রী। বিকেল ৪টার দিকে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক কবির মোল্লা (৪৮)। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গঙ্গাবর্দী মহল্লার গোপাল মোল্লার ছেলে।

ধান নিয়ে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিকেলেই সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে বজ্রপাতে মারা যান দুলাল খান (৫৮) নামের এক কৃষক। অন্যদিকে, মধুখালী উপজেলার চাদপুরে কবির শেখ (৪০) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা যান। তিনি পাট ক্ষেত পরিচর্যার সময় বজ্রপাতে নিহত হন।

ময়মনসিংহ: জেলার তারাকান্দা উপজেলায় বজ্রপাতে আতিকুল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরও একজন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খলিশাজান গ্রামে খোলা মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের খলিশাজান গ্রামের আজমত আলীর ছেলে।