ভয়াবহ আর্থিক সংকটে বার্সেলোনা,মেসিকে খেলানো অনিশ্চিত!

স্পোর্টস ডেস্ক : অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা খরচ অনেকটা না কমাতে পারলে মেসিসহ নতুনভাবে দলে নেয়া খেলোয়াড়দের লা লিগায় খেলার জন্য রেজিস্ট্রেশনই করাতে পারবে না। স্পেনিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা বর্তমানে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে। বার্সেলোনা বর্তমানে বেতন-ভাতা বাবদ যে পরিমান অর্থ ব্যয় করছে তার চেয়ে কমপক্ষে ২০ কোটি ইউরো ব্যয় কমাতে হবে। এটা করতে হলে তাদেরকে দলে থাকা খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর পাশাপাশি যারা বেশী বেতন-ভাতা পান তাদেরকে বিক্রি করে দিতে হবে।

কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের সব ফুটবল ক্লাবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে কোন ক্লাবই বেশী বেতন পাওয়া খেলোয়াড়দের দলে নিতে পারছে না। স্পেনিশ লা লিগা কর্তৃপক্ষের একটি নিয়ম আছে এবং সেখানে উল্লেখ করা আছে ক্লাব কত আয় করলে বেতন-ভাতা বাবদ কত ব্যয় করতে পারবে। মূলত আর্থিক অনিয়ম যাতে না ঘটে সে কারণেই এটা করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাবগুলোর মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখাও এর উদ্দেশ্য।

যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবে তা নির্ধারণ করা থাকে এবং সে অনুযায়ী ক্লাব মূল দলের খেলোয়াড়, কোচ, স্টাফ রিজার্ভ দল এবং একাডেমীর খেলোয়াড়দের পেছনে ব্যয় করতে পারে। তারা এক জায়গার ব্যয় কমিয়ে অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই মোট ব্যয় বেশী করতে পারে না। লা লিগাকে ক্লাবের ব্যালান্সশিট দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ তাতে সন্তুষ্ট হলেই কেবল খেলোয়াড়দের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। আগের সভাপতির সময়ে অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় করেছে বার্সেলোনা।

এরপর কোভিড এর কারণে আয় কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়ে বার্সেলোনা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বার্সেলোনার এখন মোট দেনার পরিমান ১৩০ কোটি ইউরো। এর ফলে তাদের খেলোয়াড়দের পেছনে ব্যয় করার ক্ষমতা কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। ২০১৯-২০ মৌসুমে তাদের ব্যয়সীমা ছিল ৬৭ কোটি ১০ লক্ষ ইউরো। সেটা কমে ২০২০-২১ মৌসুমে দাড়ায় ৩৪ কোটি ৭০ লক্ষ ইউরো। আসন্ন মৌসুমে তারা বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় করতে পারবে ১৬ কোটি ইউরো।

ফলে এখন খরচ কমানোর উপায় খুজতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সভাপতি জন লাপোর্তা। এ লক্ষ্যে তারা দলের তারকা খেলোয়াড়দের কাছে বেতন-ভাতা কম নেয়ার প্রস্তাব দিবে। ক্লাব কর্মকর্তা ম্যাতিউ আলেমানি ইতোমধ্যেই জেরার্ড পিকে, সার্জিও বুসকুয়েটস, সার্জি রবার্তো এবং জর্দি অ্যালবার এজেন্টের সাথে বেতন কমানো নিয়ে কথা বলেছেন। তাদেরকে ৪০% বেতন কম নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। মেসির সাথে বার্সেলোনার সমঝোতা হলেও কেবল আর্থিক কারণেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারছেন না।

যদিও মেসি তার বেতন ৫০% কমিয়ে নিতে রাজী হয়েছেন। তারা প্রথমে এজেন্টের সাথে কথা বলবেন। এর পর খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলবেন। এছাড়া চেষ্টা চলছে অ্যান্টনি গ্রিজম্যান, উমতিতি এবং ফিলিপ কুটিনহোকে বিক্রি করে দেয়ার। কিন্তু সমস্যা হলো উমতিতি এবং কুটিনহো ইনজুরির কারণে গত মৌসুমে ঠিকমতো খেলতে পারেননি। তাই তাদেরকে কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোন দল।

গ্রিজম্যান তার সাবেক দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে ফিরে যেতে চান। সাউল নিগুয়েজের সাথে হতে পারে তার দল বদল। সেক্ষেত্রে কিছু অর্থ বেচে যাবে বার্সেলোনার। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত তারা কোন কিছুই করতে পারেনি। যদি তারা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয় তাহলে নতুনভাবে দলে নেয়া কোন খেলোয়াড়কেই আসন্ন মৌসুমে মাঠে নামাতে পারবে না।