গোল্ডেন মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Goden Monir

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিক্রয়কর্মী থেকে সোনা চোরাচালান ও নানা অপকর্মের মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিকসহ ২৩টির বেশি প্লট মালিক হওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির পরিদর্শক মো. ইব্রাহিম হোসেন মঙ্গলবার সকালে বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনে এই মামলা দায়ের করেন।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিআইডি বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- গোল্ডেন মনিরের সহযোগী আবদুল হামিদ (৬০), মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, বোন নাসিমা আক্তার, নাসিমার স্বামী হাসান আলী খান, মনিরের আরেক ভগ্নিপতি নাহিদ হোসেন।

এছাড়াও তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনকে (৬৩) আসামি করা হয়েছে। রিয়াজ উদ্দিনের ভাই হায়দার আলী (৫৬), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিককেও (৫২) আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অপরাধের মাধ্যমে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

তারা এসব অর্জিত সম্পদ জ্ঞাতসারে গ্রহণ করে ভোগ দখল করছেন। এর আগে, গত বছরের ২০ নভেম্বর গোল্ডেন মনিরের বাড্ডার বাড়িতে রাতভর অভিযানের পর সকালে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে গ্রেপ্তারের খবর জানায় র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে ওই বাড়ি থেকে নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা, ৯ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা, আট কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। প্রসঙ্গত, সোনার দোকানের সেলসম্যান থেকে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ে মনির। ২০০১ সাল পর্যন্ত সোনা চোরাচালানই ছিল তার মূল কাজ। তখনই তার নাম হয় গোল্ডেন মনির। এরপর সে রাজউকের প্লট বাগানোর কাজ শুরু করে। সে রাজউকের একটি সিন্ডিকেটের সদস্য হয়ে যায়। তারপর তার উত্থান শুরু হয়।